শিশিরে শিশিরে...
কৌস্তুভ দে সরকার
"শিউলি ঝরানো দিন আবেশে চিরদিনের বাণী..." - "আ:, রাখবি? তোর ওই গান? বন্ধ কর না। প্লিজ..." রূপনের উপর এক্কেবারে চেইতে ওঠে অমিতাভ। রূপন বোঝে না । পথসাথীতে কফি খেতে খেতে মোবাইলে হাল্কা বাজতে থাকা গানের কলির প্রতি হঠাৎ এত এলার্জি কেন হল ওর। ও তো এরকম না। সংগীত প্রিয় তো বটেই। - "কি হল? হঠাৎ ক্ষেপলি কেন? গান টা তো দারুন। সবার প্রিয় গান। শুভমিতার গাওয়া। মিলিয়ন মিলিয়ন মানুষ শুনছে।" - "ধুর। রাখ তো, তোর ওই গান। চিরদিনের বাণী... চিরদিনের বাণী।" - "কেন? কি ভুল আছে গানটায়? দারুন লিরিক্স।" - "ব্যাঙের।" - "কেন?" - "কোথায় তোর চিরদিনের বাণী? শালা, বাণী এক নম্বরের হারামি। সেই নাইন থেকে আমার পিছে লেগেছিল। তারপর মাধ্যমিকের রেজাল্টটা খারাপ করে দিয়ে গেল গা। ওর বাবা বদলি হয়ে গেল, আর ওও আর কোনো যোগাযোগ রাখলো না। শালা, ওর জন্য...। না হলে এতদিনে আমি - বিডিও এসডিও ডিএম কতকিছু হতে পারতাম। শালা, পুরো লাইফটাই হেল করে দিয়ে গেছে। আর তুই বলছিস চিরদিনের বাণী। হাটা ওগলা গান ফান। " - "হুম। বুঝলাম। তা এই গানের কি দোষ বন্ধু। তোর বাণী আর এই বাণী তো এক না। এটা অন্য বাণী।" - 'শোন, সব বাণীই এক। পৃথিবীতে যত বাণী আছে, সব শালা ওই এক গোয়ালেরই গরু। শালারা প্রেম করবে নিজের ইচ্ছায় আর বিয়ে করবে বাবা-মার ইচ্ছায়। আমার এসবের উপর ভক্তি চটে গেছে।" - "কেন, তুই কি তাহলে বিয়ে করবি না?" - "করব। কিন্তু কোনো বাণী-ফানিকে নয়।" - "তাহলে?" - "ধুর। ছাড় না। অন্য প্রসঙ্গে চল। আর ভালো লাগছে না।" - "আচ্ছা, বেশ। শোন তবে আরেকটা অসাধারণ গান।" - "না:, আর কোনো গানই শুনব না। মেজাজটা একেবারে বিগড়ে দিলি তুই। চল, উঠি চল। কফির দামটা মিটিয়ে দিয়ে বাড়ি যাই।" রূপন কিছুটা হতাশ আর অবাক হয়ে ওঠে অমিতাভের কথায়। অগত্যা বলে - - "ঠিক আছে। চল।"
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন