বর্ণালোক দ্বিমাসিক পত্রিকা

বর্ণালোক দ্বিমাসিক পত্রিকা

রবিবার, ১৫ নভেম্বর, ২০২০

প্রেরণা বড়াল

 


                                  মধুমিতা  

                                   প্রেরণা বড়াল 


তোমায় হৃদ মাঝারে রাখব-----গানটা গুনগুন করতে করতে চাঁদনি রাতে একাই কীর্তনের শেষে ফিরছিল সে। ----এই মধু শোন। -- যা মোলো, বিড়বিড় করল মধু। এই সেই নন্টু ছোকরা টা। --বড্ড পিছু লেগেচে। শালার বৌ বাচ্চা আচে, তাতে মন ভরে না। প্রেম প্রেম খেলা খেলতে চায়। আদিক্ষেতা। --কি কও দাদা, জলদি কও। আমার তাড়া আচে। কেত্তন গেয়ে এমনিতেই অনেক রাত্তির হয়েচে। আবার সকালে উঠতি হবে। কাজে যাওয়া লাগবে। -- ভাবলাম তুই একা যাচ্ছিস, তা একটু এইগে দেই। -- ও---, মধুমিতা পা চালিয়ে হাঁটতে থাকে। গাটা একটু ছমছম করে। - কি জানি শালার কি মতলব। পুরুষ ছেলে দেখলেই আজকাল তার স্বার্থি আর মতলবি বলে মনে হয়। আজ সে একেবারে একা। তার ভবিষ্যত পাঁচ বছরের ছেলে। পেটের দায়ে ওকে মায়ের কাছে রেখে কাজে যেতে হয়। এক সময় তার ও একটা সুন্দর সংসার ছিল। ওরা প্রেম করেই বিয়ে করেছিল। শুরুর দিনগুলো ভাবতেই শরীর মন কেমন যেন হয়ে যায় তার। মা বাবা আদর করে তার নাম রেখেছিল মধুমিতা। কিন্তু স্বামীর কাছে কি মধু, মিতা হয়ে উঠতে পেরেছিল ? না কেবল মধু --ছিল। নইলে আরও একটি বিয়ে কি করে করলো সে। মনের দুঃখে ছেলেকে নিয়ে মায়ের সংসারে এসে উঠেছে। হঠাত্ নন্টুর কথায় ভাবনাতে ছেদ পড়ল। -- কি সুন্দর চাঁদনি রাত তাই না ? --হুম, তুমি চইলে যাও। ওই তো সামনে বাড়ী। আলো দেখা যাচ্ছে। -- ঠিক আছে। বাড়ীতে এসে পা ধুয়ে আলো নিভিয়ে শুয়ে পড়ল মধুমিতা। জানালা দিয়ে চাঁদের আলো এসে পড়েছে ছেলের মুখের উপর। আহা কি সুন্দর। ওর দিকে তাকিয়ে সমস্ত কষ্ট ভুলে যায় নিমেষে। ওকে খুব ভালো করে মানুষ করতে চায় সে। ছেলে বড়ো চাকরি করবে-পরীর মতো একটা বউ আসবে ঘরে - এমনি চাঁদনি রাতে ওরা কতো প্রেম করবে--। নিজের জীবনে যা কিছু পায়নি, সে সবই দেখতে চায় ছেলের জীবনে। স্বপনের জাল বুনতে বুনতে কখন যেন সে ঘুমিয়ে পড়ে। 


কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন