বর্ণালোক দ্বিমাসিক পত্রিকা

বর্ণালোক দ্বিমাসিক পত্রিকা

রবিবার, ১৫ নভেম্বর, ২০২০

কাবেরী তালুকদার

 


                                অস্তিত্ব নেই

                             কাবেরী তালুকদার

 

রাত পৌনে বারোটা বাজে।সব কিছু সেরে আমি খেতে বসেছি।সবাই যে যার ঘরে ঢুকে গেছে। শুধু মাংস আর দুটো রুটি খাবো।হঠাৎ মোবাইলটা বেজে উঠলো।এত রাতে ফোন , নিশ্চয়ই কোন দুসংবাদ।না , ধরবো না। খাওয়াটা মাটি হবে।থেমে থেমে তিনবার বাজলো।মিস কল। বুঝলাম রত্নার ফোন।রত্নাই একমাত্র ছিল যে এমন মিসকল দিয়ে ফোনে কথা বলে।রত্না আমার ন, কাকার মেয়ে।একটু পরে ভুলেও গেলাম। আবার পরের দিন সেই রাত বারোটা এবং মিসকল।এবার রাগ হোলো।রত্নাকে বকতে হবে।রোজ রোজ রাত বারোটায় ফোন, ইয়ার্কি না কি।খেয়ে উঠে এমন ঝাড় দেবো, ইয়ার্কি করা বেরিয়ে যাবে। কিন্তু আবারও ফোনের কথা ভুলে গেলাম। কিন্তু সকালে উঠেই মনে হলো 

আজ যদি করে ধরবোই ধরবো।একটা কথা, আমি নাম্বার সেভ করতে পারি না। আজ কিন্তু আমি খুব অ্যালার্ট।আগে খেয়ে নিয়েছি। যথারীতি বারোটা বাজলো। এবং রিং বাজলো। আমি খুব তাড়াতাড়ি ফোন ধরে ফেললাম। বলে উঠলাম ,'রত্না , ভালো হচ্ছে না।দেখি হলে মজা টের পাইয়ে দেবো।'ওপর প্রান্ত থেকে ভরাট গলার এক পুরুষ কন্ঠ বলে উঠলো 'কেমন আছো প্রিয়া?' অবাক হয়ে বললাম 'কে আপনি?চিনতে পারলাম না। আমার নাম আর নম্বর কোথায় পেলেন!'অল্প হাসলেন ভদ্রলোক। বললেন ',আমাকে চিনতে পারলে না।একলা বাড়িতে যার সঙ্গে মনে মনে কথা বলে ,দিনটা কাটিয়ে দাও ,সেই আমি।',চমকে উঠলাম।সত্যি একা একা বাড়িতে সারাটা দিন আমি কাটিয়ে দিই আমার কৈশোরের হারিয়ে যাওয়া ভালোবাসার সঙ্গে।কত গল্প করি ,গান শোনাই, , কিন্তু জানলো কি করে।জিজ্ঞাসা করলাম।বললো, 'শুকতারা র সূক্ষ্ম আলো দুই প্রান্তে দুটি মনকে বেঁধে রেখেছে।তাই ভুলতে চাইলেও ভোলা যাবেনা।'অনেক গল্প হলো।তার প্রিয় গানটাও গাইললাম।এবার বিদায়ের পালা।আনন্দে ভরা মন নিয়ে শুতে গেলাম।কাল আমি ফোন করবো প্রতিশ্রুতি দিয়ে।পর দিন রাত বারোটা কিন্তু খুব দেরি করে এলো। কিন্তু এলো। আমি ফোন করলাম ।শুনলাম এই নম্বরের কোন অস্তিত্ব নেই।

                                      সমাপ্ত



কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন