রক্ষক যখন ভক্ষক
মৌ ঘোষ
তিনতলা বিশাল বাড়িতে সেদিন অন্ধকার নেমে এলো,আঠাশ বছরের বিধবা বৌমা দুটি কন্যা সন্তান নিয়ে
যেন কর্পূরের মত উবে গেল।পাড়া প্রতিবেশীদের ঘুম উড়ে গেলো এটা ভেবেই যে ওমন শান্ত
স্বভাবের মেয়েটি কোথায় গেল!মৈত্রেয়ী মনে মনে বুঝছিল,এই বিশাল বাড়িটায় নিজ এবং তার ছোট্ট দুটি কন্যা
সন্তানের দুবেলা দুমুঠো খাওয়া ছাড়া কোনো ভবিষ্যৎ নেই।এমপ্লয়মেন্ট এক্সচেঞ্জ এর অফিসে
আলাপ হওয়া নিখিলেশ হাস্যমুখে এগিয়ে এসে আলাপ করেছিল নিজে থেকেই।আস্তে আস্তে
বন্ধুত্ব, একটা চোরা টান,নিখিলেশ একদিন বলল আমি তোমার এবং তোমার
সন্তানের দায়িত্ব নিতে চাই।হঠাৎ করেই বিয়েটা হয়েও গেল।কিন্তু বিধবা মৈত্রেয়ী নতুন
সংসারে গিয়ে সমস্যায় পরে গেলো তার কন্যা সন্তানদের নিয়ে।বড়মেয়ে মাত্র বারো বছর আর
ছোটটি সবে আট ।নিখিলেশ হাত বাড়ালো বড়মেয়ে তৃষার দিকে,হতবাক নাবালিকা মেয়েটিকে ভোগের পন্য করতে চাওয়া
নিখিলেশ ভয় দেখালো যদি তার মনমত আনন্দ তৃষ্ণা না দিতে পারে তার মাকে ঘুমের মধ্যেই
গলা টিপে মেরে ফেলবে।ভয়ে জড়োসড়ো মেয়েটি মাকে বলতে পারলোনা তাদের নতুন এই বাপীর
কীর্তি।দিনের পরদিন চললো তৃষার ওপর মানসিক অত্যাচার, মৈত্রেয়ী আন্দাজ করতে পারছিল কিছু একটা অগোচরে
ঘটছে।তুমুল এক অশান্তির মধ্যে তৃষ্ণা ভয়ে একদিন কান্নাকাটি করলো ছোট্ট বোনটার
কাছে।শ্রেয়ান মৈত্রীর ছোট মেয়ে,দিদিকে এই পিশাচের হাত থেকে কিভাবে বাঁচাবে
ভাবতে বসলো,দিদিকে বললো আজ থেকে তুই ঐ লোকটা ডাকলে একদম
যাবিনা দিদি,যা বলার আমি বলবো,সেই মত মধ্য রাতে নিখিলেশ ঘরে এলো,দুবোনেই জেগে,তৃষ্ণা ভেবে যেই নিখিলেশ শ্রেয়ানের গায়ে হাত
দিল,শ্রেয়ান চিলচিৎকার করে মাকে ডেকে উঠলো,মৈত্রেয়ীর ঘুম ভেঙে গেল,দৌড়ে পাশের ঘরে গিয়ে দেখলো নিখিলেশ ধমকানি
দিচ্ছে তার প্রানের টুকরোকে।বিষয়টা বুঝতে বাকি আর রইল না।চোরের মায়ের বড়গলা
নিখিলেশ সেপথেই গেল,মৈত্রেয়ী বাপের বাড়িতে তার মেয়েদের রেখে এলো
কিছু দিনের জন্য, কিন্তু নিখিলেশ মৈত্রেয়ীর কাছে ক্ষমা চেয়ে, কান্নাকাটি করে ,দুই মেয়েকে আবার ফিরিয়ে আনলো।মৈত্রেয়ী ভাবলো সে
বোধহয় শুধরে গেছে,কিন্তু ভুল ভাঙতে সময় বেশিদিন লাগলোনা।
অন্তঃসত্ত্বা হয়েছে মৈত্রেয়ী, ডাক্তার বেডরেষ্টে থাকতে বলেছেন, ঘুমের মধ্যেই মৈত্রেয়ী শুনলো ছোট মেয়ের চিৎকার, ছুটে গেল মৈত্রেয়ী, বিস্ফোরণ ঘটলো ছোট্ট ঘরটায়, এলোপাতাড়ি ছোট্ট মেয়েটাকে মারছে নিখিলেশ।কেন না
অবাধ্য মেয়ে নাকি তাকে অপমান করেছে,ছোট্ট মেয়েটার গলায় একরাশ ঘৃনা, সে বলে চলেছে কিসের জন্য দিদিকে রাতে র
অন্ধকারে ঐ লোকটা ডাকছিল!মৈত্রেয়ীর বুঝতে বাকি রইলো না,মৈত্রেয়ী এও শুনলো তার মেয়ে বলছে মা রক্ষক ভক্ষকের ভূমিকা
নিয়েছে।সাবধান মা,ঐ লোক টা আমাদের বাঁচতে দেবেনা, বাঁচতে দেবে না।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন