গহীন মন
বহ্নিশিখা
সন্তান নেই বলে আত্মীয় স্বজন পাড়া প্রতিবেশি সকাল বেলা কেউই মুখ দেখে না কমলার। আঁটকুড়ে মুখ
দর্শণে দিন ভাল যায় না, তাদের । মনে মনে কষ্ট পেলেও ঠোঁটে হাসে কমলা। কুসংস্কারাচ্ছন্ন মানুষকে দেখে।
বুকের ভেতর চাপা কষ্টটা বিগরে গেলে মাঝে মাঝেই সে ঈশ্বরকে খুব বকে। ঈশ্বর হয়তো
চান নি সে মা হয়। নয়তো বিয়েটা স্বাভাবিকের চেয়ে দেরিতে হবে কেন? তাও আবার দোজবর। দু'সন্তানের বাবা।
বিয়ের পর পরেই কমলা মা ডাক শুনার জন্য খুব উদগ্রীব ছিল। কিন্তু নবারুণ সতর্ক
ছিল খুব। অনেক পীড়াপীড়ি করেও একরোখা নবারুণকে ডাক্তারের কাছে যেতে রাজি করাতে পারে
নি কমলা।
এ নিয়ে অশান্তি হতে হতে এক সময় মনোপজ এরিয়ায় চলে যায়। যখন আর কিছু করার থাকে
না। মাতৃত্ব সুখ থেকে বঞ্চিত হয়ে খানিকটা এবনরমাল হয়ে পড়ে কমলা। ভুল বুঝে নবারুণের
পরিবার।
এরপর পেরিয়ে গেছে অনেকদিন। সামলে উঠেছে কমলা। কান্নাগুলো বুকের ভেতর মরে যায়।
আবার জিইয়েও যায়। তখন উদাসীন ভাবে হাঁটতে থাকে। হাঁটতে হাঁটতে পথ চলতে চলতে তার
দেখা হয় অনেক মায়ের সাথে, কথাও হয়।
এই সে দিনই তো ! অনেক কথা হল এক মায়ের সাথে। ফুরিয়ে যাওয়া সেই মা। তার মনের খবর কেউ জানতেও
চায় না। অভিমান না বুঝে অভিযোগের পাল্লা ভারী করে দূরেই ভাল থাকে সন্তানেরা। মা'রা সব বুঝে। কিছু বলে না।
কমলাই কতটুকু রাখে মা'য়ের খবর? মা'য়ের মনের খবর? সেও তো ভীষণ রকম ব্যস্ত, না পাওয়ার যন্ত্রণা যখন তাকে সার্বক্ষণ ব্যথিত
করে, কখনো কি একবারও ভেবেছে
কেমন আছে সব থাকা মা'য়ের মন?
মাঝে মাঝে দেখতে যায় কমলা। তার মাকে। নিজের প্রয়োজনটাই মুখ্য থাকে। নিরিবিলি
কথা হয় না। মায়ের অনেক জমানো কথাই হয়ত গলার নীচে দলা পাকিয়ে থাকে। গিলে ফেলে সে
কষ্টগুলো। বলাই হয় না।
ছোটবেলায় দেখেছে দিদিমা'র মনেও খুব কষ্ট ছিল। মা, মামারা ছিল, তবুও কষ্ট ছিল। দিদিমা খুব কাঁদতো, এখন মা"ও খুব কাঁদে।
এই জনমে জানা হল না কমলার, মা ডাক শুনতে কেমন
লাগে? সেও কাঁদে।
সমাপ্ত
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন