বর্ণালোক দ্বিমাসিক পত্রিকা

বর্ণালোক দ্বিমাসিক পত্রিকা

রবিবার, ১৫ নভেম্বর, ২০২০

 


 



                                 কালাচাঁদ 

                                তাপসকিরণ রায় 

 

--হারামজাদী, এগুলি রুটি, না আটার দলা ? কালাচাঁদ নেশার ঘোরে টলছিল। সে ভাবেই কাছে দাঁড়ান বৌয়ের চুলের মুঠি টেনে ধরে সে, তারপর দু চারটে থাপ্পড় চড় দেবার পর ক্ষান্ত হয়। 

--কি করুম? ভেউ ভেউ কাঁদতে কাঁদতে বলে ওঠে যমুনা। 

--আবার কথা ? চোপা !

--নাআমি কমু কমু কমু--

--তবে রে--এক মোক্ষম ধাক্কা পড়ল যমুনার গায়ে, সে ঘরের মেঝেতে ছিটকে গড়িয়ে পড়ল। প্রায়ই একটু আধটু হয়, কিন্তু আজ যেন বড় আকার নিলো। যমুনা গলা ছেড়ে কেঁদে উঠল। 

--যা যা--তোর বাপের কাছে যাওই--শ্যামলালের কাছে যা--কালাচাঁদ টলতে টলতে বিছানায় গিয়ে পড়ে। মাঝ রাতে আবার সে জেগে ওঠে তখন নেশার ধুম ছুটে গেছে, খিদেয় পেট চোঁ চাঁ করে উঠেছে। 

যমুনা ঘরের মেঝেতে পড়ে শোকে দুঃখে ঘুমিয়ে পড়ে ছিল। 

--এই, এই যমুনা, যমুনার কাঁধে ঠেলা দিতে থাকে কালাচাঁদ। 

--কি হইতাছে ? টের পেয়ে যমুনা ঝাঁজিয়ে ওঠে।

--খুব ভুক লাগছে রে --

--যাখা গে যা না--

--তুই বাইড়া না দিলে আমি খাইতে পারি

--খুব পারিস--

--পারি না রে, তুই না দিলে আমার খাইতে ইচ্ছা হয় না, কালাচাঁদ এখন অন্য এক মানুষ। শান্ত ভদ্র এক নিরীহ জন, নেশারু রূপ বুঝি তার এক খোলস ছিল ! সে যমুনার মাথায় কপালে হাত বুলায়--আদর সোহাগ করে। 

শুরুতে যমুনা এক ঝামটা দিয়ে পাশ ফিরে শোয়। তারপর ধীরে ধীরে বশ্যতা স্বীকার করে নেয়।ওদের কাছে সুখ-দুঃখের ক্ষেত্রফলগুলি একই সূত্রে গাঁথা। ওরা বুজি দুঃখে কাতর হয়ে সুখের অপেক্ষা করে আর মুহূর্তের সুখকে জীবনের ভেতর জিয়িয়ে রাখে। তাই শত দুঃখের আবর্তনের মাঝেও ওরা বেঁচে থাকতে শিখেছে !

                                               

                                           সমাপ্ত 


কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন