এমন কোন দিন দেখিনি
শমিত কর্মকার
হঠাৎ করে সে দিন রাতে মনোময়ের বাড়ি থেকে ফোন এলো, তুমি তাড়াতাড়ি বাড়ি চলে এসো। ফোনটা করেছিল
মনোময়ের কাকিমা। মনোময় বুঝতে পারছিল না কেন এমন ফোন ! তা হলে কি বাড়িতে কিছু
বিপদ? ফোন তো এটুকু করেই ছেড়ে দিল--বাড়ি চলে এসো।
মনোময়ের বাড়ি সাগরের কাছাকাছি একটি গ্রামে।
সে
কলকাতায় চাকরি
সূত্রে থাকে। তার উপর এক মারণ রোগ মানুষের জীবন বিপন্ন করে দিচ্ছে। মানুষ কোনটা
করবে ভেবে পাচ্ছে না। মনোময়ের বাড়ি যেতে হলে সেই ডায়মন্ডহারবার রোড ধরে যেতে
হবে। এতো রাত্রে খবর আসায় সে একটু ঝামেলায় পড়ল, তার উপর একটা মানসিক চিন্তা কি হল, তার এ সপ্তাহে নাইট ডিউটি তার উপর সোমবার, অফিসের একটা জরুরি কাজ পড়ে আছে সেটা যে আমাকে বুঝিয়েই বেরোতে হবে।
মনোময় রোজ রাত ৮টার মধ্যে অফিসে চলে নাইট
ডিউটি থাকলে। কিন্তু সে দিন এমন একটা ফোন আসায় সবাই গন্ডগোল হয়ে গেল। কি করবে, কি করবে না, এই ভেবে সব ঠিক করে বেরোতে দেরি হয়ে গেল। তার
অফিস ডায়মন্ডহারবার রোডের উপরে ছিল। প্রধান ফটক দিয়ে ঢোকবার সময় দেখল চারিদিকে
শুনশান হয়ে গেছে, কাউকে তেমন চোখে পড়ছে না ! অফিস প্রধান ফটক
থেকে প্রায় আধ কিলোমিটার। দুপাশে গাছ গাছালি ভরা, আধো আলো জায়গা। মনোময় দেখলো তার ঠিক আগে আগে
কে হেঁটে যাচ্ছে। সে ভাবলো ভালোই হল, চারিদিকে শুধু শুনশান কাউকে তো পাওয়া গেলো। সে
ভাবলো তার অফিসের বিমলদা বোধ হয়। মনোময় বিমলদা বিমলদা বলে ডাকছে আর এগোচ্ছে
কিন্তু সে যত তাড়াতাড়ি হাঁটছে সামনের জনও আর জোরে হাঁটছে। মনোময় ভাবছে তাহলে কে
আগের ঐ লোকটা ? বিমলদা হলে তো সাড়া দিতো। তাহলে তার আগে যাওয়া
মানুষটি কে? তার শরীর ভারী হতে লাগলো। ঠিক যখন অফিসের সামনে
সে দেখলো লোকটা আর নেই! মনোময় ঠিক অফিসের সামনে এসে অজ্ঞান হয়ে গেল। অফিসের যারা
নাইটে ছিল ছুটে এসে তাকে ধরে জল দিতে লাগলো আর বলতে লাগলো, এমন কি হল আজ সে অজ্ঞান হয়ে গেল !
একটু জ্ঞান ফিরতেই তার মুখ দিয়ে শুধু আওয়াজ
বেরোচ্ছে, এমন তো কোন দিন দেখিনি, এমন তো কোন দিন দেখিনি ! সবাই অবাক হয়ে গেল, আজ মনোময় কি দেখেছে যে তার এমন অবস্থা হল !
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন