একটি নির্জন দুপুর
তমা কর্মকার
নির্মল সেদিন নির্জন দুপুরে বীনার ঘরে এলো। এসে দেখে বীনা দুপুরের ভাত ঘুমে
আচ্ছন্ন হয়ে আছে। নির্মল ঘুমন্ত বীনার দিকে হা করে তাকিয়ে দেখতে লাগলো। এতো সুন্দর লাগলো বীনাকে যে নির্মল খানিক্ষন
নির্বাক হয়ে দাঁড়িয়ে পড়লো, তারপর ঘুমন্ত বীনার কপালের উপর অগছানো চুলগুলি বীনার চোখের উপর পড়েছে দেখে নির্মল নিজের হাতের আঙ্গুল দিয়ে সরিয়ে দিলো
অনেক সাবধানে। তবুও ঘুমন্ত বীনার নির্মলের আগুলের স্পর্শে ঘুম ভেঙে গেলো, আর বীনার আধো ঘুমের ঘোরেও সামনে নির্মলকে দেখে
ভূত দেখে চমকে উঠার মতো চমকে গেলো। বীনা নিজেকে একটা চিমটি কেটে দেখলো সত্যিই সে
নির্মলকে দেখছে নাকি, ও আগের মতোই স্বপ্নের ঘোরে নির্মলকে দেখছে ! বীনার ঘোর কাটলো নির্মলের কথায়, নির্মল বলল, কী গো আমায় চিনতে পারছো না ? আমি যে তোমার নির্মল, হ্যাঁ গো সত্যিই আমি, আমাকে ছুঁয়ে দেখো--
বীনা নির্মলের কথায় তাকে জড়িয়ে হাউ হাউ করে কাঁদতে লাগলো আর বলতে লাগলো, তুমি কোথায় হারিয়ে গিয়েছিলে গো, আমি যে তোমাকে হারিয়ে নিজেকে কোনো রকমে বাঁচিয়ে
রেখেছি। শুধু তোমার জন্য, আমি জানতাম ভগবান এত নির্দয় হতে পারে না, একদিন না একদিন তোমাকে আমার কাছে ঠিক ফিরিয়ে
দেবেন। নির্মল ও বীনাকে জড়িয়ে ধরে বলল, বীনা তোমার চিঠিতে আমাদের বেবি হবার খবরটা
পাবার পর থেকেই সব সময় আনন্দে আত্মহারা হয়ে থাকতাম, বিদেশি কোম্পানি তাই চাইলেই ছুটি পাওয়া যায় না, অনেক কষ্টে যদিও বা ছুটি পেলাম তাও বসের হকুম
একটি গোপন অভিযান করার পরই ছুটি মিলবে। আর তুমি তো জানো আমাদের গোপন অভিযানের খবর
কাউকে জানানো যায়না, তাই আমিও কাউকে জানাতে পারলাম না। আমার গোপন
অভিযানের কথা, চলে গেলাম গোপন অভিযানে, ওখান কার মিশনে এবার অনেক ঝামেলা হল। বেশ কয়েক
জন মারাও গেলো, আমি অনেক আইনি হুজ্জতি পূরণ করে তারপর ছুটি
পেলাম আর ছুটি পেতেই চলে এলাম আমার সন্তান আর আমার সন্তানের মায়ের কাছে, বীনা কোথায় আমাদের সন্তান?
বীনা নির্মলকে ছেড়ে পাশের ঘরে বীনার মায়ের কাছে শুয়ে থাকা ঘুমন্ত সোনাইকে তুলে
এনে নির্মলের কোলে দিয়ে বলল, এই নাও তোমার মেয়ে নীলাকে--
নির্মল নীলা ও বীনাকে দু হাতে দুজনকে নিজের বুকের মধ্যে চেপে ধরে পরম
সুখশান্তির নিঃশাস ফেললো| দুপুরের নির্জনতা কাটিয়ে দূরের স্কুলে ছুটির
ঘন্টা
বাজলো|
সমাপ্ত
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন