নিঝুম ঘাতক
অগ্নিশ্বর সরকার
রাত্রের শয্যা ছেড়ে উঠে পায়চারী শুরু করলেন রাজামশাই। আর হয়তো সপ্তাহ খানেক ঠেকিয়ে রাখা যাবে শত্রুপক্ষকে। ইতিমধ্যে কেউ কেউ হয়তো শত্রুদের সঙ্গে হাতও মিলিয়েছে। এখন তাদের খুঁজে পাওয়াটাও যেমন জরুরি, তার থেকেও দরকার শত্রুপক্ষকে আটকানো। হয়তো রাজ্যের নারী ও শিশুদের সন্তর্পণে সরিয়ে দেওয়া সম্ভব, কিন্তু স্থাপত্য-বৈভব এগুলো কীভাবে রক্ষা করা সম্ভব? এগুলোর সঙ্গে জড়িয়ে আছে গোটা রাজ্যের আবেগ। মাথায় এত চিন্তা ঘুরছে, এইভাবে রাস্তা বের করা সম্ভব নয়। বাইরের এক প্রহরীকে নির্দেশ দিলেন রানীকে ডেকে আনার। কয়েক মুহূর্তের মধ্যে রানী এসে উপস্থিত হলেন রাজার সম্মুখে। - রানী, তুমি নিশ্চয় রাজ্যের সমূহ বিপদ সম্পর্কে অবিহিত আছো? - হ্যাঁ মহারাজ। আমরা জহর ব্রতর জন্য প্রস্তুত আছি। আমরা জানি আপনি যুদ্ধ করবেন। জিতে গেলে আনন্দোৎসব আর পরাজিত হলে স্বেচ্ছা-মৃত্যু। - কিন্তু কোনও রাস্তাই কি নেই? - রাস্তা অবশ্যই আছে মহারাজ। আপনি এখন বিচলিত আছেন, তাই সেটা খুঁজে পাচ্ছেন না। আমি বরং রাজবৈদ্যকে খবর দিই। উনি এসে আপনার বিশ্রামের ব্যবস্থা করে দিন। - তাই ডাকো রানী। আমি আর ভাবতে পারছি না। পরাজয় আর বিষাদের একটা কালো মেঘ আমার চারিদিকে ঘিরে আসছে। রাজবৈদ্যকে জরুরী তলব করা হল। উনিও হাজির হলেন মহারাজের শয়ন কক্ষে। বিচক্ষণ দৃষ্টিতে পরীক্ষা শুরু করলেন মহারাজের। - মহারাজ আপনার বিশ্রামের প্রয়োজন। - আমি বিশ্রাম নিই কীভাবে? আমার সকল প্রজারা বিপদের মধ্যে আছে। সম্ভব হলে আপনিও সত্ত্বর দেশ ছেড়ে চলে যান। - সেটা সম্ভব নয় মহারাজ। আপনি যদি অপরাধ না নেন তবে একটা কথা বলতে পারি? - বলুন। - আমাদের রাজ্যের ভিতরে যেসকল জলাশয় আছে তাতে রাজ্যবাসীর কতদিন চলবে? মহারাজ একটু ভেবে বললেন, তা প্রায় দু মাসাধিককাল। - তাহলেই হবে। আমাকে যদি রাজ্যের বিপদে একটু সাহায্য করার সুযোগ দেন। - রাজ্য তো আপনারও। অবশ্যই রাজ্যের হিতের জন্য কিছু করতেই পারেন। কিন্তু কি করবেন? - চিকিৎসার প্রয়োজনে কিছু মৃতদেহ সংরক্ষিত করা আছে আমাদের কাছে। যাদের আমরা রোগমুক্তি দিতে পারিনি তাদেরই। তাদের শরীরে এমন কিছুর অস্তিত্ব আছে যা সুস্থ মানুষকে পুনরায় রোগগ্রস্ত করতে পারে। কয়েকদিন আগে আমাদের এক বৈদ্য ওই মৃতদেহের সংস্পর্শে এসে মারা গেছেন। এখন যদি সতর্কভাবে ওই মৃতদেহগুলিকে ব্যবচ্ছেদ করে শত্রুপক্ষের কাছে থাকা জলাশয়গুলিতে মিশিয়ে দেওয়া হয়? সেই রাতেই পরিকল্পনা করা হল। তৈরি করা হল ইতিহাসের প্রথম জৈবিক অস্ত্র। নিশ্চিহ্ন হল শত্রুপক্ষ। জয়ী হলেন রাজা। রক্ষা পেল রাজ্য। মানব সভ্যতায় জুড়ল আরও একটা প্রাণঘাতী অস্ত্র। [ ঘটনাটি সম্পূর্ণরূপে কাল্পনিক। ইতিহাসের সঙ্গে এর কোনও মিল নেই। গল্পটি থেকে কোনও ভুল ব্যাখ্যার সৃষ্টি করবেন না।]
উত্তরমুছুনবার তিনেক পড়লাম ...
বাঃ বেশ মনোগ্ৰাহী লেখনী 👏
ভাল লেখা
উত্তরমুছুনধন্যবাদ
মুছুন