বর্ণালোক দ্বিমাসিক পত্রিকা

বর্ণালোক দ্বিমাসিক পত্রিকা

শনিবার, ১৪ নভেম্বর, ২০২০

ডাঃ অরুণ চট্টোপাধ্যায়

 

                         কল্পবিজ্ঞানের অনুগল্প

একই বৃন্তে

-ডাঃ অরুণ চট্টোপাধ্যায়


ওর নাম পচা। বাজারে পচা মাছ বেচে অনেক দুর্নাম কুড়িয়েছে। এখন মা কালি আর কেষ্টঠাকুরের যৌথ কৃপায় অনেক সুনাম কুড়োচ্ছে। তাঁদের কৃপায় জবা গাছে লাল জবাফুলের সঙ্গে ফুটেছে হলদে কলকে ফুল।   

খবরটা পাওয়ার পর থেকে পচার ভাঙ্গা বাড়িতে লোক একেবারে ভেঙ্গে পড়েছে। পুরোন আড়ময়লা চেক লুঙ্গি পরা পচা এখন গেরুয়া পরে গায়ে নামাবলী জড়িয়ে দিনরাত পড়ে আছে টবের সেই গাছের তলায়। দিনের পর দিন লোক যত বেড়েছে সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে তার দাড়িও ঠাকুর পরমহংস আবার এলেন বুঝি।  

ধ্যানমগ্ন পচাকে ঘিরে অগনিত ভক্তের দল লুটোপুটি খাচ্ছে। বাজছে শাঁখ, কাঁসর-ঘন্টা। এই গাছ তো স্বয়ং কল্পতরু!চেয়ে নে, ওরে তোরা চেয়ে নে যে যা পারিস।মাঝে মাঝে ধ্যান ভেঙ্গে পচা বলছে সব ভক্তকে, শুধু আমার জন্যে চেয়ে নে নিখাদ ভক্তি। আর কিছু চাই না মা।

আর কিছু না চাইলে কি হবে। সেই গাছের তলায় পাতা একটা গামছায় জড় হচ্ছে রাশি রাশি টাকা। লোকে দিচ্ছে আর ঘোরের মধ্যে পচা বলছে, তুলে নে তুলে নে সব দরিদ্রসেবায় লাগবে।

এসেছে যুক্তিবাদীর দল। এ রকম নাকি এর আগেও হয়েছে। যুক্তিবাদীরা সেখানে দেখিয়েছে লোককে কিভাবে নিপুণতার সঙ্গে অন্য ফুলের গোড়ায় তার দিয়ে বেঁধে ভেলকি দেখানো হচ্ছিল। কিন্তু এখানে কলকে টানতেই গাছের ডাল থেকে ছিঁড়ে এল সেটা। যুক্তিবাদীরা তো থ। এ তো তবে ভেলকি নয়? তবে সত্যি কি মা কালি আর কৃষ্ণ মিলে-

লোকে হৈ হৈ করে উঠেছে। যুক্তিবাদীদের প্রায় মারতে বাকি রেখেছে, দেখলেন তো এটা ভাঁওতা নয়?

-কে বললে এটা ভাঁওতা? একটা চরম সত্যকে তোমরা ভাঁওতা বলে চালাতে চাও?

একটা লোক ঢুকে পড়েছে। উস্কোখুস্কো চুল। চোখদুটো টকটকে লাল। পাগল কি নেশাখোর  

-আমার দু দুটো বছরের অক্লান্ত পরিশ্রমকে তোমরা বুজরুকি বলছ? পাগলও নয় নেশাখোরও নয়। লোকটা উদ্ভিদবিজ্ঞানী পচা একদিন মাছ বেচতে গিয়ে তার বাগানের টবে এই অদ্ভুত জিনিসটির দর্শন পায়। বিজ্ঞানীর খেয়াল তাই মন খুলে সব বলেছিল তাকে।  

মা কালি বা কেষ্টঠাকুর নয়, পুলিশের কৃপায় পচা এখন জেলে পচছে। বিজ্ঞানীর আবিষ্কার চুরি করে লোক ঠকানোর সাজা।



২টি মন্তব্য: