বর্ণালোক দ্বিমাসিক পত্রিকা

বর্ণালোক দ্বিমাসিক পত্রিকা

শনিবার, ১৪ নভেম্বর, ২০২০

বাণী মন্ডল

 

                                     

                                     

                                        প্রাপ্তি 

                               বাণী মন্ডল                                                                              

 

পৌষালির বিয়েটা হয়েছিল শান্তিনিকেতনের নামজাদা চিত্রকর আলোক সেনের সঙ্গে সম্বন্ধ করে। পাড়া প্রতিবেশী আত্মীয় স্বজন সবাই পৌষালির স্বামী ভাগ্যে বেশ একটু ঈর্ষান্বিত ও হয়েছিল। পৌষালি ও প্রথম প্রথম এ ব্যাপার টা মনেমনে উপভোগ করলেও বিয়ের তিন মাস যেতে না যেতে স্বামীর  আসল চরিত্রটা  বুঝতে পেরেছিল। ছবি আঁকা র নামে আলোক নিত্য নতুন মডেল কে স্টুডিও তে এনে নিজের ভোগবাসনা তৃপ্ত করত।পৌষালি প্রথমে এ ব্যাপারে অসন্তোষ পরে প্রতিবাদ জানালেও কোনো ফল হয়নি।আলোক শুধরাল না , বরং পৌষালি কে নিয়ম করে মারধোর করতে শুরু করে। বিষয় টা বাপের বাড়িতে জানালেও ফল হয় উল্টো। মা-কাকীমারা তো সোজা বলেন--- পুরুষ মানুষের একটু আধটু দোষ থাকে আবার সময়ে  চলে ও যায়। স্ত্রী দের ই এসব দোষ কাটাতে হয়।                    মা কাকীমা র কথা শুনে সে চেষ্টা ও করেছিল পৌষালি।না,আলোক সেন বিন্দু মাত্র পাল্টাল না, বরং দিনে দিনে তার অত্যাচারের মাত্রা ক্রমেই বেড়ে গেল। চারিদিকে কোনো কূল কিনারা না পেয়ে পৌষালি যখন জীবন শেষ করে দেবার কথা ভাবছিল তখনই একদিন কোলকাতার রাস্তায়  সুজয়ের সাথে  দেখা।সুজয় কলেজে পৌষালির চেয়ে একক্লাস উঁচু তে পড়ত। চাকরি সূত্রে থাকত মধ্যপ্রদেশ।কদিনের ছুটিতে কোলকাতায় আসা। রাস্তায় হঠাৎ দেখা, , ফোন নাম্বার বিনিময়। মনেমনে আলোক সেনের অত্যাচার অবহেলা থেকে বাঁচতে চেয়েছিল পৌষালি।আর সেই কারণে বোধহয় সুজয়ের ওপর নির্ভরশীলতা বেড়ে গিয়েছিল। সুজয় ও নিরাশ করে নি। একদিন আলোক সারারাত তার সুন্দরী মডেল কে উপভোগ করে  সকালে নিজের ঘরে গিয়ে দেখে পাখি নেই, শূন্য খাঁচা।               প্রবাসে চল্লিশ বছরের সুখী জীবন কাটানোর পর মেয়ে জামাইয়ের আবদার বিয়ের সূবর্ণ জয়ন্তী তে নতুন করে  মা বাবার বিয়ে দেবে।  বহু বন্ধু সমাগমে শাস্ত্রমতে বিয়ে সম্পন্ন হয় সুজয়-পৌষালির। বেশির ভাগ নিমন্ত্রিত অতিথিরা চলে গেলে নিজের বেডরুমে ঢোকে পৌষালি। আয়নায় দেখতে পায় সুজয় খুব মোটা করে সিঁদুর দিয়েছে সিঁথি তে।নাকটাও লাল হয়ে গেছে সিঁদুরের গুঁড়োয়।                                                                   ভারী বেনারসী ছেড়ে আর কপালের চন্দন মুছে  হালকা  একটা শাড়ি পরে নেয় পৌষালি।সুজয় তখন ও বরবেশে বন্ধু বান্ধবের সঙ্গে গল্প করছে। খাটে শুয়ে স্মার্টফোন টা নিয়ে  ফেসবুকে চলে যায় পৌষালি। একি? সোস্যাল মিডিয়া কি বলছে?আজ সারাদিন নানা ব্যস্ততায় সে বা সুজয় কেউ ফোন ঘাটে নি। গম্ভীর হয়ে যায় পৌষালি।সুজয় ঘরে আসে। সোস্যাল মিডিয়া র খবর টা সুজয় কে দেখিয়ে পৌষালি জিজ্ঞেস করে ----- ভুল করলাম না তো? আমার কি কোনো করণীয় কাজ আছে  সুজয় খবর টা আর ও একবার ভালো করে পড়ে পরম মমতায় পৌষালি কে বুকে টেনে নিয়ে বলে------ না,কোনো ভুল করিনি আমরা। আর তোমার কোনো করণীয় কাজ ও নেই।আলোক সেন তো আজ সকাল নটায়  স্ট্রোকে মারা গেছেন।আর আমি চল্লিশ বছর  পর এই শুভ লগ্নে.....এর কি কোন মূল্য নেই তোমার কাছে? বলো,বলো।                                          

পৌষালি নিরুত্তর, শুধু আরো আবেগঘন বাহুডোরে নিবিড়ভাবে সুজয়কে জড়িয়ে ধরে।


কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন